ফ্রল্যান্সিং কি? কিভাবে ফ্রিল্যান্সিং করে মাসে লক্ষ লক্ষ টাকা আয় করা যায়

আপনি কি খুঁজছেন, ফ্রিল্যান্সিং কি? কিভাবে ফ্রিল্যান্সিং শুরু করা যায়? কিভাবে ফ্রিল্যান্সিং থেকে ঘরে আয় করা যায়?


তবে আপনি একদম সঠিক জায়গায় এসেছেন। এখানে আমরা আজ আলোচনা করব ফ্রিল্যান্সিং কি এবং কিভাবে আপনি ফ্রিল্যান্সিং করে আয় করতে পারবেন? তাই ফ্রিল্যান্সিং সম্পর্কে জানতে আমাদের সাথেই থাকুন।

Freelancing in Bangla

হ্যালো বন্ধুরা, সাউট-অন-বাংলায় আপনাদের সকলকে স্বাগতম🙏।


বর্তমানে মানুষ তার সময়ের সবচেয়ে বেশি অংশ ব্যায় করছে ইন্টারনেটে। আর একারণেই বারছে ইন্টারনেটের উপর মানুষের নির্ভরতা।


পূর্বে মানুষ কাজের জন্য কোনো সরকারি বা বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে কাজের জন্য অ্যাপ্লাই করতো। কিন্তু ইন্টারনেটের এই অধিক জনপ্রিয়তার ফলে এখন মানুষ ইন্টারনেটকে ব্যবহার করে তার ভরণপোষণের ব্যবস্থাও করছে।


আজ আমরা এমনই একটি প্রক্রিয়া সম্পর্কে জানব।


এমনিতেতো ইন্টারনেট থেকে আয় করার অনেক মাধ্যম রয়েছে (যেমনঃ ব্লগিং, ডিজিটাল মার্কেটিং, অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং, ইউটিউব ইত্যাদি)। কিন্তু এর সবচেয়ে বড় সমস্যা হলো, এ থেকে আয় করতে মানুষের অনেক বেশি সময় ব্যায় করতে হয়।


যেমন ব্লগিং থেকে আয় করার জন্য প্রথমে আপনাকে একটি ব্লগ শুরু করতে হবে, এরপর একে সঠিকভাবে কাস্টমাইজ করতে হবে, একে সার্চ ইঞ্জিনে আনার জন্য এর এসইও করতে হবে এবং সর্বশেষ এবং সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো এতে রেগুলার কন্টেন্ট শেয়ার করতে হবে ও আপনার ব্লগে পর্যাপ্ত ট্রাফিক থাকতে হবে। এরপরে গিয়ে আপনি ব্লগ থেকে আয়ের আশা করতে পারেন।


তাহলে কি ইন্টারনেট থেকে অল্প সময়ে আয় করার কোনো উপায় নেই?


আছে।


আজ আমরা এ উপায় সম্পর্কেই বিস্তারিত আলোচনা করব। আর এই উপায়টি হলো ফ্রিল্যান্সিং।


কি নামটি শুনা-শুনা মনে হচ্ছে।


ফ্রিল্যান্সিংয়ের সাথে আমরা প্রত্যেকেই কিছুটা পরিচিত। বর্তমান সময়ে বাংলাদেশের বাজারে একটি বড় অংশ দখল করে আছে এই ফ্রিল্যান্সিং পেশাটি।


এর একটি বড় করণ হলো আমাদের দেশে পর্যাপ্ত পরিমাণে সরকারি ও বেসরকারি চাকরি নেই। আমরা এতো কষ্ট করে ১৫-২০ বছর পড়াশোনা করি। পড়াশোনা শেষ করে যখন চাকরি নিতে যাই তখনই শুরু হয় সমস্যার।


আমাদের দেশে পর্যাপ্ত চাকরির ভেকেন্সি না থাকায় অধিকাংশ শিক্ষিত যুবকরাই বেকার হয়ে পড়ে এবং তারা বিভিন্ন অনৈতিক কাজে জড়িয়ে পড়ে।


আর এ সমস্যার সমাধানই হলো ফ্রিল্যান্সিং পেশাটি। ফ্রিল্যান্সিং এ যেকেউ তার দক্ষতাকে কাজে লাগিয়ে অনেক ভালো পরিমাণে অর্থ উপার্জন করতে পারেন। একারণেই বর্তমান তরুণ সমাজের মধ্যে ফ্রিল্যান্সিং একটি জনপ্রিয় পেশায় পরিণত হয়েছে।


আমাদের দেশে ফ্রিল্যান্সিং পেশাটি জনপ্রিয় হওয়ার আরেকটি বড় কারণ হলো, এই পেশায় আপনি মুক্ত ভাবে কাজ করতে পারেন, কেউ আপনার উপর থাকবে না।


অর্থাৎ সাধারণ চাকরিতে যেমন আপনি কোনো একটি কোম্পানি বা সরকারের আন্ডারে কাজ করেন। আপনার বস্ থাকে, ফ্রিল্যান্সিং এ কিন্তু তেমনটি নেই।


আপনি নিজেই আপনার বস্!


আবার সাধারণ চাকরিতে আপনাকে সময়মতো কর্মোস্থলে পৌছাতে হয় এবং নির্দিষ্ট সময় পর্যন্ত সেখানে অবস্থান করে আপনাকে আপনার কাজ সম্পন্ন করতে হয়। এর বিনিময়ে আপনি মাস শেষে একটি নির্দিষ্ট টাকা পান।


ফ্রিল্যান্সিং এ এমন কোনো সমস্যাই নেই। আপনি যখন ইচ্ছা কাজ করতে পারেন। আর আপনি যত কাজ করবেন তত টাকা পাবেন। মাস শেষে কোনো নির্দিষ্ট টাকার পেছনে আপনাকে আর ভাগতে হয়না।


এসব কারণেই বর্তমান তরুণ সমাজের ভেতর ফ্রিল্যান্সিং পেশাটি এতো জনপ্রিয়তা পেয়েছে।


তাহলে, আপনিও কি ফ্রিল্যান্সিং করতে আগ্রহী?


আপনার উত্তর কমেন্ট সেকশনে জানান।


যদি আপনিও ফ্রিল্যান্সিং করতে চান এবং একজন ফ্রিল্যান্সার হয়ে ঘরে বসে কীভাবে উপার্জন করতে হয় তা জানতে চান, তবে এই পোস্টটি আপনার জন্য।


এই পোস্টে আমরা,

  • ফ্রিল্যান্সিং কি
  • সাধারণ চাকরি ও ফ্রিল্যান্সিং এর মধ্যে পার্থক্য
  • কেন মানুষ চাকরি ছেড়ে ফ্রিল্যান্সিং এর দিকে বেশি ঝুকছে
  • ফ্রিল্যান্সার কি
  • কিভাবে ফ্রিল্যান্সাররা কাজ করে
  • ফ্রিল্যান্সিং এর সুবিধা
  • ফ্রিল্যান্সিং এর অসুবিধা
  • ফ্রিল্যান্সিং এ বাংলাদেশের অবস্থান
  • ফ্রিল্যান্সিং শেখার জন্য কি কি প্রয়োজন
  • কিভাবে ফ্রিল্যান্সিং শিখব
  • ফ্রিল্যান্সিং এর জন্য কি কি শিখব
  • কিভাবে ফ্রিল্যান্সিং এ ক্যারিয়ার গড়ব
  • জনপ্রিয় কিছু ফ্রিল্যান্সিং প্ল্যাটফর্ম
  • কিভাবে একজন সফল ফ্রিল্যান্সার হওয়া যায়
  • ফ্রিল্যান্সিং মার্কেটে কিভাবে কাজ পাব
  • ফ্রল্যান্সিং করে কত টাকা আয় করা যায়
  • কিভাবে পারিশ্রমিক বুঝে নেব


এ সম্পর্কে বিষদ আলোচনা করব


যদি আপনিও ফ্রিল্যান্সিং সম্পর্কে জানতে উৎসাহী হন তবে আমাদের সাথেই থাকুন।


তাহলে চলুন শুরু করা যাক!


সবার প্রথমে আমরা জানব ফ্রিল্যান্সিং কি?


আরও পড়ুনঃ ঘরে বসে অনলাইনে আয় করা উপায়


ফ্রল্যান্সিং কি

ফ্রিল্যান্সিং হলো ইন্টারনেটের মাধ্যমে ঘরে বসে আপনার কোনো skill বা অভিজ্ঞতার মাধ্যমে অন্যের কাজ সম্পাদন করা এবং এর বিনিময়ে অর্থ উপার্জন করা।


কি? এখনো বিষয়টি বুঝতে পারেননি?


আমরা যেমন লেখাপড়া শেষে কোনো কোম্পানিতে কাজ করার জন্য নিজের সিভি জমা দেই। কোম্পানি আমাদের সিভি দেখে এবং ইন্টারভিউয়ের মাধ্যমে আমাদের যোগ্য মনে করলে সেই চাকরির জন্য নিয়োগ দেয়। এরপর আমরা সকাল ৯টা থেকে বিকাল ৫টা পর্যন্ত কাজ করি। আর এর বিনিময়ে কোম্পানি আমাদের মাস শেষে নির্দিষ্ট পরিমাণ টাকা দেয়।


ঠিক তেমনি ফ্রিল্যান্সিং এ কাজ পাওয়ার জন্য আমরা যে বিষয়ে অভিজ্ঞ কিংবা যে বিষয় সম্পর্কে আমরা ভালোভাবে জানি এমন কাজ পাওয়ার জন্য আমরা ফ্রিল্যান্সিং মার্কেটপ্লেসে কাজ পাওয়ার জন্য আবেদন করি।


এরপর সেই ক্লায়েন্ট তার চাহিদা অনুযায়ী আমাদের যোগ্যতা দেখে সেই কাজের জন্য নিয়োগ করে আর এর বিনিময়ে আমরা অর্থ উপার্জন করি। একটি উদাহরণ দিয়ে বিষয়টি আরো সহজে বুঝা যাক।


মনে করেন, আপনি ওয়েব ডিজাইনিং পারেন এবং আপনি একটি কোম্পানিতে ওয়েব ডিজাইনিংয়ের কাজই করেন। এখন আপনার কোনো আত্মীয় আপনার কাছে আসে এবং বলে তার মিষ্টির দোকান আছে এবং সে এর জন্য আপনাকে একটি ওয়েবসাইট তৈরি করে দিতে বলে।


আপনি বলেন ঠিকআছে আমি আপনার দোকানের জন্য একটি ওয়েবসাইট তৈরি করে দিব। এরপর আপনি আপনার অফিসের কাজ শেষে বাসায় যান এবং আপনার সেই আত্মীয়ের মিষ্টির দোকানের জন্য ওয়েবসাইট তৈরি করেন।


পরেরদিন আপনি আপনার আত্মীয়কে তার ওয়েবসাইটটি দেন আর আপনার এই কাজের বিনিময়ে আপনার আত্মীয় আপনাকে এর পারিশ্রমিক দেয়।


এখানে যেমন আপনি আপনার আত্মীয়ের কাজ করে দিয়েছেন এবং এর বিনিময়ে অর্থ উপার্জন করেছেন ঠিক তেমনি আপনি যদি ইন্টারনেটের মাধ্যমে অন্য কারো কাছ থেকে কাজ নিয়ে তা সম্পন্ন করার পর নির্দিষ্ট পরিমাণ অর্থ আয় করেন তবে তাই হলো ফ্রিল্যান্সিং।


ফ্রিল্যান্সিংয়ে আপনি কোনো নির্দিষ্ট কোম্পানি বা ফার্মের জন্য কাজ করেন না। আপনি নিজের ক্লায়েন্টদের নিজেরাই খুঁজে বের করেন এবং তাদের জন্য কাজ করেন। ক্লায়েন্টে একটির কাজ শেষ করার পরে, আপনি অন্য ক্লায়েন্টের কাজ শুরু করেন। এবং এই ধারাবাহিকটি এভাবেই চলতে থাকে। সুতরাং ফ্রিল্যান্সিং একটি দক্ষতা ভিত্তিক কাজ। যার মধ্যে একজন ব্যক্তি তার skills বা দক্ষতাকে কাজে লাগিয়ে তা থেকে অর্থ উপার্জন করে।


আশা করি ফ্রিল্যান্সিং কি এ বিষয়টি ভালোভাবে বুঝতে পেরেছেন।


যদি এখনো আপনার মনে কোনো প্রশ্ন থাকে কমেন্ট সেকশনে আপনার প্রশ্নটি করুন, আপনি আপনার প্রশ্নের উত্তর পেয়ে যাবেন।


এতক্ষণ আমরা দেখলাম ফ্রিল্যান্সিং কি। এখন চলুন জানা যাক চাকরি এবং ফ্রিল্যান্সিং এর মধ্যে পার্থক্য কি?


সাধারণ চাকরি ও ফ্রিল্যান্সিং এর মধ্যে পার্থক্য

ইন্টারনেটের ব্যাপক প্রসার এবং কর্ম সংস্থানের অভাব পূরণ করতে আবিষ্কার করা হয়েছে ফ্রিল্যান্সিং এর।


ফ্রিল্যান্সিং এ কাজগুলো এবং কাজ করার প্রক্রিয়া সাধারণ চাকরির তুলনায় ভিন্ন।


তাহলে চলুন দেখা যাক সাধারণ চাকরি এবং ফ্রিল্যান্সিং এর মধ্যে পার্থক্য কিঃ

  1. নরমাল চাকরিতে আপনাকে কোনো একটি নির্দিষ্ট কোম্পানি বা সংস্থার আওতায় কাজ করতে হয়।

    কিন্তু ফ্রিল্যান্সিং এ আপনি কোনো নির্দিষ্ট প্রতিষ্টান কিংবা ব্যাক্তির আওতায় কাজ করতে হয় না।

  2. সাধারণ চাকরিতে আপনাকে নির্দিষ্ট সময় কোনো কোম্পানি বা সংস্থায় অবস্থান করে আপনার কাজ সম্পাদন করতে হয়।

    ফ্রিল্যান্সিং এ আপনি যেকোনো সময় যেকোনো স্থানে আপনার কাজ করতে পারেন।

  3. সাধারণ চাকরিতে সবসময়ই আপনার উপর আপনার বস্ থাকে। অনেকে আবার নিজের বসে্র বকুনি খেতে খেতে অতিষ্ট হয়ে পড়ে।

    আর এই সমস্যার সবচেয়ে বড় সমাধান হলো ফ্রিল্যান্সিং।

    কারণ ফ্রিল্যান্সিং এ আপনার উপর কেউ নেই আপনিই আপনার বস্

  4. সাধারণ চাকরিতে আপনাকে নির্দিষ্ট পরিমাণ পারিশ্রমিক দেয়া হয়।

    কিন্ত ফ্রিল্যান্সিং এ আপনি যত কাজ করবেন তত টাকা পাবেন।

  5. সাধারণ চাকরিতে আপনি নির্দিষ্ট সময় শেষে টাকা পান।

    কিন্ত ফ্রিল্যান্সিং এ আপনি যখনই আপনার কাজ শেষ করবেন তখনই টাকা পাবেন।


আপনি ফ্রিল্যান্সিং এ যখন ইচ্ছা কাজ করতে পারবেন। তবে একথা সবসময়ই মনে রাখবেন জীবন সফল হতে হলে পরিশ্রমের বিকল্প নেই


ঠিক তেমনি ফ্রিল্যান্সিং এও সফলতা পেতে হলে আপনাকে নিয়মিত কাজ করে যেতে হবে।


এই ছিল সাধারণ চাকরি এবং ফ্রিল্যান্সিং এর মধ্যে পার্থক্য।


যদি আমি কোনো পয়েন্ট বাদ দিয়ে যাই, কমেন্ট করে জানাবেন, অন্যদের সাহায্য হবে।


কেন মানুষ চাকরি ছেড়ে ফ্রিল্যান্সিং এর দিকে বেশি ঝুকছে

যদি প্রশ্ন করা হয় মানুষ কেন চাকরি ছেড়ে ফ্রিল্যান্সিংকে পেশা হিসেবে বেছে নিচ্ছে?


তাহলে এর দুটি প্রধান কারণ দাড়ায়।

  1. কর্মসংস্থানের অভাব
  2. অতিরিক্ত আয়ের আশা


বর্মান সময়ে বাংলাদেশের জনসংখ্যা অধিক হারে বৃদ্ধি পাওয়ায় এবং সেই হারে কর্মসংস্থানের হার না বাড়ায় মানুষ বেকারত্বে ভুকছে।


ওয়ার্ল্ড ভিশন বাংলাদেশের তথ্য অনুযায়ী, বাংলাদেশের চার কোটি ৪০ লাখ তরুণের প্রতি ১০ জনের একজন বেকার।


"বাংলাদেশে সর্বশেষ শ্রমশক্তি জরিপ হয়েছে ২০১৭ সালে। সেই জরিপ অনুযায়ী, দেশে কর্মক্ষম জনগোষ্ঠী ৬ কোটি ৩৫ লাখ। আর তাঁদের মধ্যে কাজ করেন ৬ কোটি ৮ লাখ নারী-পুরুষ। দুই সংখ্যার মধ্যে বিয়োগ দিলেই পাওয়া যায় বেকারের সংখ্যা। আর সেটি হলো ২৭ লাখ। আর শতাংশ হিসাবে বাংলাদেশে বেকারত্বের হার ৪ দশমিক ২ শতাংশ।"


সোর্সঃ- প্রথমআলো


আর এ হার ধীরে ধীরে আরো বৃদ্ধি পাচ্ছে। একারণেই মানুষ ধীরে ধীরে ফ্রিল্যান্সিং এর দিকে অগ্রসর হচ্ছে।


আবার কিছু মানুষ আছে যারা তাদের নিয়মিত চাকরির পাশাপাশি কিছু অতিরিক্ত আয়ের আশায় ফ্রিল্যান্সিং করছে।


মানুষের ফ্রিল্যান্সিং এর দিকে ঝুকার আরো কিছু কারণ আছে। তবে এদুটি কারণই প্রধান।


এতক্ষণ আমরা আলোচনা করলাম ফ্রিল্যান্সিং নিয়ে। এ চলুন জানা যাক ফ্রিল্যান্সার কি বা কারা?


ফ্রিল্যান্সার কি?

ফ্রিল্যান্সার কি এটা জানার জন্য আপনাকে বেশি পরিশ্রম করতে হবেনা। সহজ কথায় বলতে গেলে যারা ফ্রিল্যান্সিং করে তারাই ফ্রল্যান্সার।


ফ্রিল্যান্সিং হলো পেশার নাম, আর যারা এই পেশার সাথে জরিত তারাই ফ্রিল্যান্সার।


আপনাকে যে আগে একটি উদাহরণ দিয়েছিলাম যেখানে আপনি আপনার আত্মীয়ের জন্য ওয়েবসাইট তৈরি করে আয় করেছেন। এখানে ওয়েবসাইট তৈরিটা হলো ফ্রল্যান্সিং আর আপনি যেহেতু তৈরি করেছে তাহলে আপনি হলেন ফ্রিল্যান্সার।


আশা করি বিষয়টা বুঝতে পেরেছেন।


ফ্রিল্যান্সিং এবং ফ্রিল্যান্সার সম্পর্কে জানার পর চলুন এখন জানা যাক এরা আসলে কাজ কিভাবে করে?


কিভাবে ফ্রিল্যান্সাররা কাজ করে

ফ্রিল্যান্সাররা কিভাবে কাজ করে এ বিষয়টি বুঝতে পারলেই ফ্রিল্যান্সিং কি এ বিষয়টি আপনার কাছে পুরোপুরি স্পষ্ট হবে।


মনে করেন আমি একটি কেম্পানি শুরু করেছি, যা এখন আমি অনলাইন আনতে চাই।


তাহলে আমার কি কি লাগবে। একটি ওয়েবসাইট, আমার কোম্পানির জন্য একটি লোগো, আমার ওয়েবসাইটকে শোসাইল মিডিয়ায় একটিভ ও পরিচালনা করার জন্য একজন শোসাইল মিডিয়া এক্সপার্ট, আমার ওয়েবসাইট যেন সার্চ ইঞ্জিন আসে তার জন্য একজন এসইও এক্সপার্ট


তাই না।


তাহলে আমি কি করব?


আমি কোনো একটি ফ্রিল্যান্সিং প্ল্যাটফর্মে যাব। সেখানে গিয়ে আমি আমার প্রয়োজন অনুযায়ী আমার ওয়েবসাইট তৈরির জন্য একজন ওয়েব ডেভেলপার, আমার কোম্পানির লোগো ডিজাইনের জন্য একজন গ্রাফিক্স ডিজাইনার, একজন শোসাইল মিডিয়া এক্সপার্ট ও একজন এসইও এক্সপার্ট এর জন্য কাজের নিয়োগ দেব।


এরপর বিভিন্ন ফ্রিল্যান্সার এর জন্য আবেদন করবে, কে কিভাবে কাজ করবে, কত দিনে কাজ করবে, কত টাকায় কাজ করবে এ সম্পর্কে বিস্তারিত জানাবে।


আমি আমার প্রয়োজন অনুযায়ী যাকে আমার কাজের জন্য উপযুক্ত মনে হবে তাকে কাজ দেব। সে কাজ শেষে তার করা কাজটি আমার কাছে জমা দিবে এবং এর বিনিময়ে সে তার পারিশ্রমিক নিবে।


তাছাড়া আপনি যখন বিভিন্ন ফ্রিল্যান্সিং মার্কেপ্লেসে নিয়মিত কাজ করবেন, তখন আপনি অটোমেটিক বিভিন্ন ব্যক্তি ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের সাথে পরিচিত হয়ে উঠবেন।


ফলে বিভিন্ন ক্লায়েন্ট তার কাজ করানোর জন্য সরাসরি আপনার প্রোফাইলের মাধ্যমে আপনার সাথে যোগাযোগ করবে।


আপনি যখন এই লেভেলের ফ্রিল্যান্সার হতে পারবেন, তখন ফ্রিল্যান্সিং করে মাসে লাখ টাকা আয় করা আপনার জন্য কোন ব্যাপারই হবে না। মূলত এভাবে একজন ফ্রিল্যান্সার অনলাইনে কাজ করে ঘরে বসে লক্ষ লক্ষ টাকা আয় করছে।


ফ্রিল্যান্সিং এর সুবিধা ও অসুবিধা

উপরের আলোচনা ও বিশ্লেষণ থেকে বলা যায় যে, নিজের মেধা ও অভীজ্ঞতাকে কাজে লাগিয়ে অনলাইনে বিভিন্ন ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের সাথে চুক্তির মাধ্যমে অনলাইনে কাজ করে তা থেকে টাকা আয় করাকে ফ্রিল্যান্সিং বলা হয়।


তাছাড়া উপরের আলোচনা থেকে এটাও স্পষ্ট যে, ফ্রিল্যান্সিং যদিও একটি মুক্ত পেশা কিন্তু ফ্রিল্যান্সিং এ নিজের অবস্থান ভালো করার জন্য এবং বেশি পরিমানে টাকা আয় করার জন্য মুক্তভাবে কাজ করার কোন সুযোগ নেই।


একজন ফ্রিল্যান্সার বিভিন্ন ফ্রিল্যান্সিং মার্কেটপ্লেসে যত বেশি সময় ও শ্রম ব্যয় করবে, সেই ফ্রিল্যান্সার ফ্রিল্যান্সিং করে তত বেশি টাকা আয় করে নিতে পারবে।


আর যারা ফ্রিল্যান্সিংকে মুক্ত পেশা হিসেবে ধরে নিয়ে স্বাধীনভাবে কাজ করবে, তারা ফ্রিল্যান্সিংয়ে কখনো সফলতা অর্জন করতে পারবে না।


এবার চলুন দেখা যাক,


ফ্রিল্যান্সিং এর সুবিধাঃ

  1. ফ্রিল্যান্সিং এর সবচেয়ে বড় সুবিধা হলো এখানে আপনাকে কারো অধীনে কাজ করতে হয় না। আপনি নিজের ইচ্ছা মতো কাজ করতে পারেন।

  2. ফ্রিল্যান্সিং এ আপনার বস্ আপনি নিজেই।

  3. ফ্রিল্যান্সিং করে সাধারণ চাকরির তুলনায় অনেক বেশি টাকা আয় করা যায়।

  4. এখানে কাজের কোনো লিমিট নেই। যত বেশি কাজ করবেন তত বেশি আয় করতে পারবেন।

  5. আপনি মাসে কয়েকবার পেমেন্ট পেতে পারেন। যা কোনো সাধারণ চাকরিতে সম্ভব না।

  6. কম সময়ে অধিক অর্থ আয় করতে পারবেন।

  7. ফ্রিল্যান্সিং করার জন্য আপনাকে কোনো কোম্পানিতে যেতে হবে না। ঘরে বসেই নিজের কাজ সম্পন্ন করতে পারেন।

  8. শুরু করতে কোনো ইনভেসমেন্ট লাগে না।


এ দুনিয়ায় প্রত্যেকটি কাজেরই কিছু সুবিধা ও কিছু অসুবিধা রয়েছে। আপনি যাই করেন না কেন এর কিছু ভালো দিক থাকে আর কিছু মন্দ দিক থাকে।


ফ্রিল্যান্সিংও এর কোনো ব্যতিক্রম নয়। ফ্রিল্যান্সিং এ যেমন কিছু সুবিধা রয়েছে তেমন কিছু অসুবিধাও আছে।


এতক্ষণ যেহেতু আমরা ফ্রল্যান্সিং এর সুবিধা নিয়ে আলোচনা করলাম, সেহেতু চলুন এবার দেখা যাক এর কিছু অসুবিধা।


ফ্রিল্যান্সিং এর অসুবিধাঃ

  1. ফ্রিল্যান্সিং এ কাজের কোনো নিরাপত্তা নেই। কখনো আপনি অনেক বেশি কাজ পাবেন আবার কখনো কোনো কাজই পাবেন না।

  2. আমাদের দেশে পেমেন্টে কিছু অসুবিধা রয়েছে। বিশপষ করে আমাদের দেশে পেপাল সাপোর্ট করে না।

  3. ক্লায়েন্টের সাথে সরাসরি যোগাযোগের কোনো সুযোগ নেই। এতে প্রতারণার হার বেড়ে যায়।

  4. আমাদের দেশে মানুষের ইন্টারনেট সম্পর্কে পর্যাপ্ত জ্ঞান না থাকায় অনেকেই ফ্রিল্যান্সিংকে সাধারণ চাকরির মতো এতো মর্জাদা দেয় না।


ফ্রিল্যান্সিং এ বাংলাদেশের অবস্থান

বহিঃবিশ্বের সাথে তাল মিলিয়ে বাংলাদেশেও বাড়ছে ফ্রিল্যান্সারের সংখ্যা।


বাংলাদেশের ফ্রিল্যান্সারদের সেলস অ্যান্ড মার্কেটিং সাপোর্ট, ক্রিয়েটিভ অ্যান্ড মাল্টিমিডিয়া, সফটওয়্যার ডেভেলপমেন্ট, ওয়েব ডিজাইন এন্ড ডেভেলপমেন্ট, গ্রাফিক্স ডিজাইন, ভিডিও এ্যাডিটিং এবং প্রযুক্তি দিকগুলোয় কাজের আগ্রহ বেশি দেখা গেছে।


যার ডিমান্ড বর্তমান বিশ্বে অনেক বেশি এবং এই ডিমান্ড ধীরে ধীরে আরো বেড়েই চলেছে। আর একারণেই বাংলাদেশের ফ্রিল্যান্সাররা বহিঃবিশ্বে জনপ্রিয় হয়ে উঠছে।


প্রথমআলোর এক জরিপ অনুযায়ীঃ

"বর্তমানে বিশ্বে আউটসোর্সিং তালিকায় বাংলাদেশ তৃতীয় অবস্থানে। এখানে প্রায় সাড়ে ছয় লাখ ফ্রিল্যান্সার রয়েছেন। তাঁদের মধ্যে পাঁচ লাখ কাজ করেন মাসিক আয়ের ভিত্তিতে।"


আবার কালেরকণ্ঠের এক জরিপ অনুযায়ীঃ

Bangladesh's position in freelancing
সোর্সঃ কালেরকণ্ঠ


"অনলাইন শ্রমিক সরবরাহে বিশ্বের শীর্ষ দেশ ভারত, বৈশ্বিক ফ্রিল্যান্সার শ্রমিকের ২৪ শতাংশই ভারতের, দ্বিতীয় অবস্থানে থাকা বাংলাদেশের ফ্রিল্যান্সার বিশ্বের ১৬ শতাংশ। তৃতীয় অবস্থানে থাকা যুক্তরাষ্ট্রের ফ্রিল্যান্সার ১২ শতাংশ। একেক দেশ একেক ধরনের আউটসোর্সিং কাজে গুরুত্ব দিচ্ছে। যেমন ভারতের ফ্রিল্যান্সাররা প্রযুক্তি ও সফটওয়্যার ডেভেলপমেন্টে বেশি কাজ করছে, অন্যদিকে বাংলাদেশের ফ্রিল্যান্সাররা বিক্রয় ও বাজারজাতকরণ সেবায় এগিয়ে।"


আমার বিশ্বাস আগত কয়েক সালের মধ্যে বাংলাদেশ ফ্রিল্যান্সিং ক্যারিয়ারে ভারতকে ছাড়িয়ে ফ্রিল্যান্সিং এ শীর্ষ স্থান দখল করতে সক্ষম হবে।


এতো সব জানার পর ফ্রিল্যান্সিং শুরু করার জন্য আপনার মন ছোটফট করছে।


তাই না!!!


আর হয়তো একটা প্রশ্ন বার বার মাথায় আসছে। ফ্রিল্যান্সিং তো শুরু করব কিন্তু ফ্রিল্যান্সিং শুরু করার জন্য আমার কাছে কি কি থাকা লাগবে?


ঠিক বলেছি?


তাহলে চলুন আপনার এই প্রশ্নের উত্তর দেয়া যাক।


ফ্রিল্যান্সিং শেখার জন্য কি কি প্রয়োজন

ফ্রিল্যান্সিং করে মাসে অনেকেই লক্ষ লক্ষ টাকা আয় করছে, একথা আমরা সকলেই জানি।


তবে প্রশ্ন হলো এতো টাকা আয় করতে হলে হয়তো অনেক বেশি ইনভেস্টমেন্ট করতে হবে?


কি, এমনটাই ভাবছেন!


না, আপনার ধারণাটি সম্পূর্ণ ভুল। আপনি জিরো ইনভেস্টমেন্টের সাথে আপনার ফ্রিল্যান্সিং ক্যারিয়ার শুরু করতে পারেন।


কি, বিশ্বাস হচ্ছেনা!


অবিশ্বাসের কিছুই নেই। ফ্রিল্যান্সিং হলো অনলাইনে অন্য কারো জন্য কাজ করে তা থেকে আয় করা। এতে আপনার ইনভেস্টমেন্টের কোনো প্রয়োজন নেই।


তাহলি কি ফ্রিল্যান্সিং করতে কোনো কিছুরই প্রয়োজন নেই?


আছে। ফ্রিল্যান্সিং করতে হলে আপনার কাছে সর্বপ্রথম একটি কম্পিউটার থাকতে হবে। যা বর্তমানে সবার কাছেই থাকে।


আর যদি না থাকে তবেও চিন্তার কিছু নেই। আপনি শুধু মাত্র আপনার হাতে থাকা মোবাইল ফোন দিয়েও ফ্রিল্যান্সিং করতে পারবেন। তবে সবকিছু করা সম্ভব নয়।


যদি আপনারা জানতে চান মোবাইল ফোন দিয়ে কিভাবে ফ্রিল্যান্সিং করা যায় তবে কমেন্টে জানান, আমি খুব শিগ্রই এ নিয়ে একটি পোস্ট পাবলিশ করব।


এছাড়া আপনার প্রয়োজন হবে ইন্টারনেট কানেকশনের। কারণ ফ্রিল্যান্সিং এ আপনার সকল কাজ অনলাইনে করতে হবে। আর অনলাইনে কাজ করার জন্য দরকার ইন্টারনেট কানেকশন।


এবং সর্বশেষ আপনার প্রয়োজন হবে কোনো একটি বিষয়ের উপর দক্ষতা থাকার। কারণ আপনি কাজ করবেন, আর যদি কি করবেন তাই না যানেন তবে কেউ কি আপনাকে কোনো কাজ দেবে?


তাই ফ্রিল্যান্সিং করতে হলে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো কোনো একটি বিষয়ের উপর দক্ষতা অর্জন। যেমনঃ লোগো ডিজাইন, ফোটো এডিটিং, ভিডিও এডিটিং, ওয়েব ডিজাইন ইত্যাদি।


তাহলে ফ্রিল্যান্সিং করার জন্য আপনার কাছে একটি কম্পিউটার, একটি ভালো ইন্টারনেট কানেকশন এবং কোনো ভালো skills থাকলেই আপনি শুরু করে দিতে পারেন আপনার ফ্রিল্যান্সিং ক্যারিয়ার।


আপনার মনে এখন হয়তো একটা কথাই আসছে যে ফ্রিল্যান্সিং নিয়ে এতো কিছু বললেন তাতো ঠিক আছে, কিন্তু আমরা ফ্রিল্যান্সিং শিখব কিভাবে।


কি তাই না?


তাহলে চলুন এবার দেখা যাক কিভাবে আপনি ফ্রিল্যান্সিং শিখবেন?


কিভাবে ফ্রিল্যান্সিং শিখবেন

আমি আপনাকে আগেই বলেছি ফ্রিল্যান্সিং শুরু করার জন্য আপনার কাছে একটি কম্পিউটার থাকতে হবে। তার সাথে থাকতে হবে একটি ভালো ইন্টারনেট কানেকশনের।


আর শুধু এতেই হবেনা, আপনার কাছে থাকতে হবে কোনো একটি বিষয়ের উপর দক্ষতা ও অভিজ্ঞতা। কারণ আপনি দক্ষতা ছাড়া কোনো কাজই করতে পারবেন না। ফ্রিল্যান্সিংও এর কোনো বিকল্প নেই।


এখন আপনি নিজেকে প্রশ্ন করুন, আপনি কোন কাজটি ভালোভাবে করতে পারবেন? কোন কাজে আপনার কেউ দক্ষতা বেশি? কোন কাজটি আপনাকে করে দিতে বললে আপনি খুব সহজেই করে দিতে পারবেন।


যে কোনো কাজে আপনার অভীজ্ঞতা, দক্ষতা ও কাজ করার ইচ্ছা থাকলে আপনি খুব সহজেই ফ্রিল্যান্সিং করে মাসে আপনি ভালো পরিমাণ টাকা আয় করতে পারবেন। কোন বিষয়ে দক্ষতা না থাকলে আপনি ফ্রিল্যান্সিং করতে পারবেন না।


তাহলে তখন আপনার করণীয় কি হবে?


আপনি তখন এরাই করতে পারেন যে, ৬ মাস-১ বছর নিজেকে সময় দিয়ে কোনো একটি বিষয়ের উপর আপনি দক্ষতা অর্জন করতে পারেন।


আর যদি মনে করেন আমি ফ্রিল্যান্সিং এর জন্য এতো সময় কেন ব্যায় করব? যদি মনে করেন আজ শুরু করেছি কাল থেকে আয় শুরু।


তবে ফ্রিল্যান্সিং আপনার জন্য নয়।


বিষয়টা একটু প্রাক্টিকালি ভাবুন, আপনি একটি চাকরি পাওয়ার আশায় ওয়ার থেকে মাস্টার্স/অনার্স পর্যন্ত পড়েন৷ যেখানে আপনার ১৫-২০ বছর সময় লেগে যায়। এরপর একটি চাকরি পাওয়ার আশায় বিভিন্ন কোম্পানি ও সরকারি প্রতিষ্ঠানে অ্যাপ্লাই করেন। যেখানে আপনাকে অন্যদের সাথে প্রতিযোগীতা করে টিকে থাকতে হবে।


এই এতো কিছুর পর আপনি মাসে ২৫ - ৩০ হাজার টাকার আয় করতে পারেন। তাহলে কেন আপনি মাসে ৫০ হাজার / ১ লক্ষ টাকা আয় করার কথা ভাবছেন, আর এতে একবছর সময় দিতে পারবেন না?


এতটুকু ধৈর্য্য যদি আপনার মধ্যে না থাকে তবে ফ্রিল্যান্সিং আপনার জন্য নয়।


তাহলে মোট কথা হলো ফ্রিল্যান্সিং করার জন্য আপনার কাছে কোনো একটা বিষয়ে দক্ষতা থাকতে হবে।


যদি না থাকে তবে আপনার মনে একথা অবশ্যই আসবে যে কোন বিষয়ে দক্ষতা অর্জন করব, যাতে সহজে কাজ পেতে পারি।


আপনার এ প্রশ্নের সমাধান এখনই দিব! আমাদের সাথেই থাকুন।


ফ্রিল্যান্সিং করার জন্য কি কি শিখব

আপনার যদি কোনো বিষয়ে পূর্ব থেকেই দক্ষতা থাকে তবে তো আপনার আর চিন্তা করার দরকারই নেই। আপনি সহজেই ফ্রিল্যান্সিং শুরু করতে পারেন।


ফ্রিল্যান্সিং এ আরো বেশি সফলতা অর্জন করতে আপনার যে বিষয়ে দক্ষতা আছে সে বিষয়ের উপর কোনো কোর্স করে আপনি দক্ষতা আরো বাড়াতে পারেন। এতে আপনার কাজ পাওয়ার সম্ভাবনা আরো বেরে যাবে।


আর যদি আপনার কোনো বিষয়ে পূর্ব দক্ষতা না থাকে তবে আপনি অনলাইন অথবা অফলাইন কোর্স করে কোনো বিষয়ে দক্ষতা অর্জন করতে পারেন।


তবে এখানে প্রশ্ন হলো কোন বিষয়ে কাজ শিখবে?


বর্তমানে কোন বিষয়ের চাহিদা বেশি?


এর জন্য আপনি নিচের দেয়া ছবিটি দেখতে পারেন যা fiverr.com থেকে নেওয়া। এই ছবিটি দেখে আপনি বুঝতে পারবেন বর্তমানে ফ্রিল্যান্সিং এ কোন কোন কাজের চাহিদা রয়েছে।

Most demanding freelancing jobs

ফাইভার মার্কেটপ্লেসে বর্তমানে গ্রাফিক্স ডিজাইন, ডিজিটাল মার্কেটিং, আর্টিকেল রাইটিং, ভিডিও এডিটিং, ওয়েব ডেভেলপমেন্ট ও লাইফস্টাইল সহ বিভিন্ন বিষয়ে ডিমান্ড রয়েছে। তাছাড়া এই ধরনের প্রত্যেক কাজের ডিমান্ড সব ধরনের ফ্রিল্যান্সিং মার্কেটপ্লেসে রয়েছে এবং প্রতিনিয়ত বেড়েই চলেছে।


  • গ্রাফিক্স ডিজাইনঃ বিভিন্ন ধরনের ব্যানার তৈরি, বিভিন্ন কোম্পানির জন্য লোগো বানানো সহ আরো বিভিন্ন ধরনের গ্রাফিক্স ডিজাইনের প্রয়োজন প্রায় সকল কোম্পানি ও প্রতিষ্ঠানের হয়ে থাকে।

    কাজেই যেকোন প্রতিষ্ঠান থেকে গ্রাফিক্স ডিজাইন বিষয়ে একটি কোর্স করে নিতে পারেন। এতে আপনার কাজ পেতে কোনো অসুবিধাই হবে না।

  • ডিজিটাল মার্কেটিংঃ বর্তমান সময়ের আরেকটি জনপ্রিয় ফ্রিল্যান্সিং জব্ হলো ডিজিটাল মার্কেটিং।

    কোনো কোম্পানি যেমন তাদের কোম্পানিকে জনপ্রিয় করার জন্য বিভিন্ন মার্কেটিং এজেন্সির কাছে যায় এবং তারা সেই কোম্পানির মার্কেটিং করে।

    ঠিক তেমনি কোনো কোম্পানি, প্রতিষ্ঠান বা সংস্থাকে যদি ইন্টারনেটে জনপ্রিয় করার জন্য এর মার্কেটিং করা হয় তবে তাকেই বলা হবে ডিজিটাল মার্কেটিং।

    আর বর্তমান সময়ের সবচেয়ে হাই ডিমান্ডিং কাজের মধ্যে একটি হলো এই ডিজিটাল মার্কেটিং।

  • আর্টিকেল রাইটিংঃ আপনার যদি লেখালেখি করা সখ থাকে তবে এই কাজটি আপনার জন্যই। এছাড়াও আপনি যদি পূর্ব থেকেই কোনো ব্লগ চালান তবে আপনি সহজেই আর্টিকেল রাইটিং করে ফ্রিল্যান্সিং থেকে অনেক টাকা আয় করতে পারেন।

    ইন্টারনেটে আর্টিকেল রাইটারে চাহিদা অনেক বেশি এবং প্রতিনিয়ত তা বেরেই চলেছে।

  • ওয়েব ডিজাইনিংঃ বর্তমান সময়ে ইন্টারনেটের ব্যবহার অনেক বেড়ে যাওয়ার ফলে প্রত্যেকটি কোম্পানিই এখন অনলাইনে আসছে। আর এর জন্য তাদের প্রয়োজন হয় ওয়েবসাইটের।

    এজন্যই ওয়েব ডেভেলপারের চাহিদা দিনে দিনে বেড়েই চলেছে। তাই আপনি যদি ওয়েব ডিজাইনিং পারেন তবে ফ্রিল্যান্সিং আপনার জন্য আশীর্বাদ হয়ে উঠবে।


এছাড়াও আরো কিছু কাজ আছে যার চাহিদা রয়েছে। আপনি একটু রিসার্চ করেই আপনার জন্য বেস্ট skill টি আপনি খুঁজে বের করতে পারেন। এবং তা শিখে ফ্রিল্যান্সিং থেকে অনেক টাকা আয় করতে পারেন।


এতো গেল আপনি ফ্রিল্যান্সিং কাজ করার জন্য যা যা শিখতে পারেন তার তালিকা।


এখন চলুন জানা যাক কিভাবে আপনি ফ্রিল্যান্সিং এ ক্যারিয়ার গড়বেন?


কিভাবে ফ্রিল্যান্সিং এ ক্যারিয়ার গড়বেন?

বর্তমান সমাজে যুবকদের ক্যারিয়ার নির্বাচনে সর্বপ্রথম চয়েজ হয়ে দাড়িয়েছে ফ্রিল্যান্সিং। ঘরে বসে আয় করা যায় বলে এখন অনেকেই এই সুযোগ কাজে লাগিয়ে তাদের ক্যারিয়ার গড়ে তুলছে।


বাংলাদেশেও একই অবস্থা। এখন অনেকেই ফ্রিল্যান্সিংকে ক্যারিয়ার হিসেবে বেছে নিচ্ছে। এক জরিপ অনুযায়ী বাংলাদেশে বর্তমানে সাড়ে ছয় লাখ ফ্রিল্যান্সার আছে।


যারা ঘরে বসে মাসে লক্ষ লক্ষ টাকা আয় করছে। আর অনেকেই এ দেখে অনুপ্রাণিত হয়ে তারাও ফ্রিল্যান্সিং এ তাদের ক্যারিয়ার গড়া শুরু করছে।


এদের মধ্যে একজন হয়তো আপনি নিজে!


তাই না!


তাহলে চলুন জানা যাক কিভাবে আপনি ফ্রিল্যান্সিং এ ক্যারিয়ার গড়বেন?


নিজের লক্ষ্য ঠিক করুন

ফ্রিল্যান্সিং এ ক্যারিয়ার গড়তে হলে সর্বপ্রথম আপনাকে আপনার লক্ষ্য ঠিক করতে হবে।


এমন অনেক লোক আছে যাদের দেখবেন আজ গ্রাফিক্সের কাজ খুঁজছে আবার কাল কন্টেন্ট রাইটিং এর। এমন লোক কখনোই সফল হতে পারবে না।


কারণ তারা নিজেই জানে না তারা কি করতে পারবে। তাহলে যারা কাজ দেবে তারাই বা এমন লোকের উপর ভরসা করবে কিভাবে।


তাই আমি আপনাকে এটাই বলব আপনি শুরুতে কোনো একটি নির্দিষ্ট বিষয়ের উপর কাজ করুন। তারপা যখন আপনি কিছুটা জনপ্রিয় হয়ে উঠবেন তখন যদি আপনার আরো কিছু skills থাকে, তার জন্য কাজ শুরু করুন।


আবার ফ্রিল্যান্সিং এ আরেকটি বিষয় হলো আপনি পার্ট টাইম করবেন না ফুল টাইম।


এর সহজ উত্তর হলো আপনি এখানে কতটা সময় দিতে পারবেন। আপনি যদি মনে করেন আপনার কাছে এখানে ফুল টাইম কাজ করার জন্য পর্যাপ্ত সময় আছে তবে আপনি সহজেই ফুল টাইম ফ্রিল্যান্সার হতে পারেন।


তবে যদি আপনি পূর্ব থেকেই কোনো জায়গায় কাজ করেন। এবং ফ্রিল্যান্সিং করার কথা ভাবছেন, তবে আমি আপনাকে এটাই বলব আপনি পার্ট টাইম হিসেবে শুরু করুন।


কারণ ফুল টাইম ফ্রিল্যান্সিং করতে হলে আপনাকে আপনার জব ছাড়তে হবে। আর আমি কোনো নতুন ফ্রিল্যান্সারকে কখনোই জব ছেড়ে ফুল টাইম ফ্রল্যান্সিং করার পরামর্শ দিব না।


মনে করেন আপনি ফ্রিল্যান্সিং করার জন্য আপনার জব ছেড়ে দিলেন। কিন্তু এখন কোনো কাজ পাচ্ছেন না। তাহলে আপনার ফ্রিল্যান্সিং ক্যারিয়ারও যাবে তার সাথে আপনার চাকরিও যাবে।


আমার পরামর্শ এটাই থাকবে আপনি প্রথমে কিছু দিন কাজ করুন। দেখুন আপনি কেমন রেসপন্স পাচ্ছেন। তারপর আপনি ঠিক করুন আপনি আপনার জব ছাড়বেন নাকি জবের সাথে সাথে পার্ট টাইম হিসেবে ফ্রিল্যান্সিং করবেন।


কোন বিষয় নিয়ে কাজ করবেন

ফ্রিল্যান্সিং করার জন্য আপনি কোন বিষয়ের উপর কাজ শুরু করবেন, এর সবচেয়ে সহজ উত্তর হলো কোন বিষয়ের উপর আপনার দক্ষতা ও অভিজ্ঞতা আছে।


আপনি সবার প্রথমে এটা দেখুন কোন বিষয়ে আপনি ভালোভাবে জানেন। এমন কি আছে যা নিয়ে আপনার জ্ঞান সবচেয়ে বেশি।


এমন কোন বিষয় আছে যা নিয়ে আপনার পড়তে আলোচনা করতে ভালো লাগে, যা নিয়ে আপনাকে কেউ প্রশ্ন করলে আপনি না ভেবেই অতিসহজেই উত্তর দিতে পারবেন।


এমন বিষয় নিয়ে আপনাকে ফ্রিল্যান্সিং শুরু করতে হবে। তবে যেকোনো একটি বিষয় উঠালেই হবে না। বর্তমান বাজারে এর ডিমান্ড কেমন তাও আপনাকে দেখতে হবে।


এ নিয়ে আমরা পূর্বেই আলোচনা করেছি। মনে না থাকলে কিছুটা উপরে পড়ুন। বুঝতে পারবেন কোন কাজের চাহিদা ফ্রিল্যান্সিং প্ল্যাটফর্মগুলোতে বেশি।


কোন কোন ফ্রিল্যান্সিং প্ল্যাটফর্মে কাজ করব

বর্তমান সময়ে ফ্রিল্যান্সিং কাজ বাড়ার সাথে সাথে বেরেছে ফ্রিল্যান্সিং প্ল্যাটফর্মের সংখ্যাও।


অনলাইনে হাজার হাজার ফ্রিল্যান্সিং মার্কেটপ্লেস রয়েছে যেখানে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান (ক্লায়েন্ট) তাদের কাজ করানোর জন্য ফ্রিল্যান্সারদের খুঁজে থাকে।


আপনাকে অবশ্যই সে ধরনের জনপ্রিয় একটা ফ্রিল্যান্সিং মার্কেটপ্লেসে কাজ করতে হবে। কারণ জনপ্রিয় মার্কেটপ্লেসে বেশি ক্লায়েন্ট থাকে বিধায় অধিক পরিমানে কাজও পাওয়ার সম্ভাবনা থাকে।


আপনি যেকোন জনপ্রিয় একটি বা দুটি ফ্রিল্যান্সিং মার্কেটপ্লেসে দক্ষতা ও বিশ্বস্ততার সাথে কাজ করতে পারলে খুব অল্পদিনে সেই মার্কেটপ্লেসে নিজের জনপ্রিয়তা বৃদ্ধি করে নিতে পারবেন। আর একবার জনপ্রিয় সাইটগুলোতে নিজেকে প্রমান করতে পারলে ফ্রিল্যান্সিংয়ে সফলতা পাওয়ার ক্ষেত্রে কেউ আপনাকে ঠেকাতে পারবে না।


তাহলে প্রশ্ন হলো কোন কোন মার্কেটপ্লেস বর্তমানে সবচেয়ে বেশি জনপ্রিয়? যেখানে আমরা কাজ শুরু করতে পারি।


আপনার এই প্রশ্নের উত্তরও আপনি এখনই পেয়ে যাবেন।


জনপ্রিয় ৩টি ফ্রিল্যান্সিং প্ল্যাটফর্ম

বর্তমান সময়ে এমন অনেক ফ্রিল্যান্সিং প্ল্যাটফর্ম রয়েছে যেখান থেকে আপনি আপনার ফ্রিল্যান্সিং ক্যারিয়ার শুরু করতে পারেন।


তবে যেকোনো জায়গায় শুরু করলেই হবে না। আপনি মনে করুন এমন প্ল্যাটফর্মে কাজ শুরু করলেন যেখানে কোনো ক্লায়েন্টই নেই। তাহলে কি আপনি কাজ পাবেন?


না, পাবেন না।


এর জন্য আপনাকে এমন প্ল্যাটফর্মে কাজ করতে হবে যেখানে পর্যাপ্ত পরিমাণে ক্লায়েন্ট ও কাজ রয়েছে। তবে প্রশ্ন হলো এমন ক্লায়েন্ট আমরা কোথায় পাব?


একদম চিন্তা করবেন না। এখন আমি আপনাকে ইন্টারনেটের সবচেয়ে জনপ্রিয় ৫টি ফ্রিল্যান্সিং প্ল্যাটফর্ম সম্পর্কে জানাব। যেখান থেকে আপনি খুব সহজেই আপনার ফ্রিল্যান্সিং ক্যারিয়ার শুরু করতে পারেন।


১. ফাইবার (Fiverr.com)

Fiverr


বর্তমানে বিশ্বের সবচাইতে জনপ্রিয় ফ্রিল্যান্সিং প্ল্যাটফর্ম হলো ফাইভার। বাংলাদেশের অধিকাংশ ফ্রিল্যান্সাররাই ফাইভারে কাজ করে।


১১ বছর পূর্বে ১ ফেব্রুয়ারি ২০১০ সালে Micha Kaufman এবং Shai Wininger এর হাত ধরে ফাইবারের যাত্রাশুরু হয়। আর বর্তমানে বিশ্বের সবচেয়ে জনপ্রিয় ফ্রিল্যান্সিং মার্কেটপ্লেসের মধ্যে একটিতে পরিণত হয়।


ফাইভারে ৫ ডলার থেকে শুরু করে ৫০০ ডলার / ১০০০ ডলার মূল্যের প্রজেক্ট পাওয়া যায়। ওয়েব ডিজাইন, ওয়েব ডেভেলপমেন্ট, গ্রাফিক্স ডিজাইন, লোগো ডিজাইন, ভয়েস রেকর্ড, আর্টিকেল লেখা, ডিজিটাল মার্কেটিং, সোশ্যাল মার্কেটিং সহ আরো বিভিন্ন ধরনের কাজ ফাইভারে পাওয়া যায়।


২. ফ্রিল্যান্সার ডটকম (Freelancer.com)

Freelancer

বর্তমান সময়ে ইন্টারনেটে বিদ্যমান আরেকটি জনপ্রিয় ফ্রিল্যান্সিং প্ল্যাটফর্ম হলে ফ্রিল্যান্সার ডটকম। এটি একটি অনলাইন ভিত্তিক জব মার্কেটপ্লেস, যেখানে ফিক্সড প্রাইস এবং আওয়ারলি রেটের প্রজেক্ট পাওয়া যায়।


এটি ২০০৯ সালে Matt Barrie এর মাধ্যমে যাত্রা শুরু করে। আপনি এর ইউজার সংখ্যা শুনলে অবাক হয়ে যাবেন। বর্তমানে এর ব্যবহারকারীর সংখ্যা হলো ৫,০০,০০,০০০ জন। যা সত্যিই বিশাল।


এখানেও প্রচুর পরিমানে অনলাইন জব পাওয়া যায়। আপনি পেপাল, স্ক্রিল, পেওনিয়ার এবং ব্যাংক ট্র্যান্সফার এর মাধ্যমে ফ্রিল্যান্সার ডটকম থেকে আয়ের টাকা উত্তোলন করতে পারবেন।


৩. আপওয়ার্ক (UpWork.com)

Upwork

আপওয়ার্ক বিশ্বের অন্যতম জনপ্রিয় ফ্রিল্যান্সিং মার্কেটপ্লেস। এটি প্রথমে ওডেস্ক নামে কার্যক্রম শুরু করে। ২০১৫ সালে সাইটটি ওডেস্ক নাম পরিবর্তন করে আরেকটি জনপ্রিয় ফ্রিল্যান্সিং প্ল্যাটফর্ম ‘ইল্যান্স’ আপওয়ার্কের সাথে একীভূত হয়ে আপওয়ার্ক নাম দেয়।


আপওয়ার্কে ফিক্সড এবং ঘন্টা ভিত্তিক (আওয়ারলি) রেটে কাজ পাওয়া যায়। এখান থেকে অর্থ তুলতে পেপাল, পেওনিয়ার এবং ব্যাংক ট্র্যান্সফার পদ্ধতি উপলভ্য আছে।


এতক্ষণ আপনি জনলেন কিভাবে এবং কোথা থেকে আপনি আপনার ফ্রিল্যান্সিং জব শুরু করতে পারবেন। এখন চলুন জানা যাক ফ্রিল্যান্সিং করে আপনি কত টাকা আয় করতে পারবেন?


ফ্রিল্যান্সিং করে কত টাকা আয় করা যায়

বর্তমান সময়ে আমাদের ফ্রিল্যান্সিং এর দিকে ঝুকার প্রধান কারণ হলো ঘরে বসে আয়। আপনি এমন হাজারো মানুষ খুঁজে পাবেন যারা ঘরে বসে মাসে লক্ষ লক্ষ টাকা আয় করছে।


আা তাদের দেখে আপনারো মনে হয়, যদি আমিও তাদের মতো কাজ করতে পারতাম? এবং ঘরে বসেই আয় করতে পারতাম?


তাই না?


তাহলে আপনি কি তাদের মতো এরকম আয় করতে পারবেন নাকি পারবেন না? এর সবচেয়ে সহজ উত্তর হলো আপনার কোনো কাজে দক্ষতা কেমন।


আপনার কাজের দক্ষতা এবং কাজের প্রতি আপনার আগ্রহই এটা নির্ধারণ করবে যে আপনি ফ্রিল্যান্সিং করে কেমন অর্থ উপার্জন করতে পারবেন।


আপনার যদি এমন কোনো কাজে দক্ষতা অনেক বেশি থাকে যার চাহিদা ফ্রিল্যান্সিং মার্কেটপ্লেসগুলোতে অনেক বেশি। তাহলে মাসে লক্ষ টাকা আয় করা আপনার কাছে কিছুই না।


তাই আমি আপনাকে এটাই পরামর্শ দেব ফ্রিল্যান্সিং করার জন্য সর্বপ্রথম কোনো একটা বিষয়ে দক্ষতা অর্জন করুন।


তাহলে সফলতা আপনার হাতের মুঠোয়।


ফ্রিল্যান্সিং FAQ

প্রশ্ন-১ঃ ফ্রিল্যান্সিং কি? ফ্রিল্যান্সিং কাকে বলে?

উত্তরঃ ফ্রিল্যান্সিং হলো ইন্টারনেটের মাধ্যমে ঘরে বসে আপনার কোনো skill বা অভিজ্ঞতার মাধ্যমে অন্যের কাজ সম্পাদন করা এবং এর বিনিময়ে অর্থ উপার্জন করা।


প্রশ্ন-২ঃ কেন মানুষ চাকরি ছেড়ে ফ্রিল্যান্সিং শুরু করছে?

উত্তরঃ মানুষের চাকরি ছেড়ে ফ্রিল্যান্সিং এর দিকে বেশি ঝুকার প্রধান কারণ হলে ঘরে বসে আয়। ফ্রিল্যান্সিং করে আপনি ঘরে বসে লক্ষ লক্ষ টাকা আয় করতে পারবেন।


এছাড়াও চাকরি ছেড়ে ফ্রিল্যান্সিং করার আরেকটি বড় কারণ হলো, চাকরি করে মাস শেষে নির্দিষ্ট পরিমাণ আয় সম্ভব।


আর ফ্রিল্যান্সিং করে আপনি যত কাজ করবেন তত টাকা আয় করবেন। এর ফলে সাধারণ চাকরির তুলনায় ফ্রিল্যান্সিং করে অনেক বেশি অর্থোপার্জন সম্ভব।


আবার অনেকে চাকরি জরার পাশাপাশি পার্ট টাইম হিসেবে ফ্রিল্যান্সিং করছে এবং মাসে ভালো পরিমাণে আয় করছে।


প্রশ্ন-৩ঃ ফ্রিল্যান্সার কারা?

উত্তরঃ যারা ফ্রিল্যান্সিং করে তারাই ফ্রিল্যান্সার। অর্থাৎ আপনি যদি ফ্রিল্যান্সিং করেন তবে আপনি হলেন একজন ফ্রিল্যান্সার। এসম্পর্কে উপরে বিষদ আলোচনা করা হয়েছে।


প্রশ্ন-৪ঃ চাকরি ও ফ্রিল্যান্সিং এর মধ্যে পার্থক্য কি?

উত্তরঃ সাধারণ চাকরিতে আপনাকে সর্বপ্রথম মাস্টার্স / অনার্স পাশ করতে হবে। এরপর চাকরির জন্য কোনো কোম্পানি বা সরকারি প্রতিষ্ঠানে আবেদন করতে হবে।


তারা যদি আপনাকে উপযুক্ত মনে করে তবে আপনি একটি চাকরি পাবেন। চাকরি পাওয়ার পর প্রতিদিন আপনাকে সকাল ৯টা থেকে বিকাল ৫টা পর্যন্ত সেই প্রতিষ্ঠানে অবস্থান করে আপনার কাজ সম্পন্ন করতে হবে। মাস শেষে আপনি নির্দুষ্ট পরিমাণ পারিশ্রমিক পাবেন।


আর ফ্রিল্যান্সিং এর ক্ষেত্রে আপনার যদি কোনো বিষয়ে অভিজ্ঞতা থাকে তবে সহজেই আপনি কাজ পেয়ে যাবেন। আপনি যত বেশি কাজ করবেন তত বেশি টাকা পাবেন।


প্রশ্ন-৫ঃ ফ্রিল্যান্সিং করার জন্য কি কি  লাগবে?

উত্তরঃ ফ্রিল্যান্সিং করার জন্য সর্বপ্রথম আপনার কাছে একটি কম্পিউটার বা ল্যাপটপ থাকতে হবে, যেখানে আপনি কাজ করবেন।


এরপর আপনার কাছে ভালো ইন্টারনেট কানেকশন থাকতে হবে। কারণ ফ্রিল্যান্সিং এর সকল কাজ অনলাইনে করতে হয়, যার জন্য আপনার কাছে অবশ্যই ইন্টারনেট কানেকশন থাকতে হবে।


আর সর্বশেষ এবং সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ উপাদান হলো কোনো বিশেষ বিষয়ে দক্ষতা ও অভিজ্ঞতা অর্জন। আপনার যদি কোনো বিষয়ে দক্ষতা না থাকে তবে আপনি কখনোই একজন সফল ফ্রিল্যান্সার হতে পারবপন না। তাই ফ্রিল্যান্সিং এ সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো কোনো বিষয়ে দক্ষতা অর্জন।


প্রশ্ন-৬ঃ ফ্রিল্যান্সিং এ কোন মার্কেটপ্লেসগুলো সবচেয়ে জনপ্রিয়?

উত্তরঃ বর্তমানে ফ্রিল্যান্সারদের বাড়ার সাথে সাথে বেড়েছে ফ্রিল্যান্সিং মার্কেটপ্লেসের সংখ্যাও। আর এদের মধ্যে জনপ্রিয় ৩টি ফ্রিল্যান্সিং মার্কেটপ্লেস হলোঃ

  1. ফাইবার (Fiverr.com)
  2. ফ্রিল্যান্সার ডট কম (Freelancer.com)
  3. আপওয়ার্ক (UpWork.com)

এদের সম্পর্কে আমরা পোস্টে ডিটেইলে আলোচনা করেছি। তাই এদের সম্পর্কে জানার জন্য পোস্টটি পড়ুন।


প্রশ্ন-৭ঃ ফ্রিল্যান্সিং কাজ কি?

উত্তরঃ ফ্রিল্যান্সিং হলো মুলত অনলাইন ভিত্তিক কাজ। যেখানে কোনো ক্লায়েন্ট তার কাজের বিজ্ঞাপন দেয়। আর কোনো ফ্রিল্যান্সার সেই কাজের জন্য বিড করে।


ক্লায়েন্ট তার চাহিদা অনুযায়ী কোনো ফ্রিল্যান্সারকে তার কাজের জন্য নিয়োগ দেয়। কাজ শেষে ফ্রল্যান্সার তার পারিশ্রমিক বুঝে নেয়। এটিই হলো মূলত ফ্রিল্যান্সিং কাজ।


প্রশ্ন-৮ঃ ফ্রিল্যান্সিং হালাল না হারাম?

উত্তরঃ ফ্রিল্যান্সিং অবশ্যই হালাল। কারণ আপনি কাজের বিনিময়ে ফ্রিল্যান্সিং করে টাকা আয় করছেন। ফ্রিল্যান্সিং এর সাথে হারাম বা অবৈধ কাজের কোন সম্পর্কই নেই।


প্রশ্ন-৯ঃ ফ্রিল্যান্সিং কিভাবে শিখব?

উত্তরঃ ফ্রিল্যান্সিং শেখার জন্য অনেকে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে কোর্স করে। তবে আমি মনে করি ফ্রিল্যান্সিং শেখার জন্য আপনার কোনো কোর্সের প্রয়োজন নেই।


আপনার যদি কোনো বিষয় দক্ষতা থাকে তবে আপনি সহজেই ফ্রিল্যান্সিং শুরু করতে পারেন।


আর যদি কোনে সমস্যায় পড়েন তবে গুগল বাবা ও ইউটিউব মামা তো আছেই।


প্রশ্ন-১০ঃ ফ্রিল্যান্সিং এর টাকা কিভাবে তুলতে হয়?

উত্তরঃ কিভাবে ফ্রিল্যান্সিং এর টাকা তুলবেন সেটা আপনার বায়ারের উপর ডিপেন্ড করবে। তবে অধিকাংশ বায়াররা ফ্রিল্যান্সিং এর কাজের টাকা PayPal এর মাধ্যমে পরিশোধ করে থাকে।


এ ক্ষেত্রে নিজের একটি PayPal একাউন্ট থাকলে টাকা হাতে পাওয়া সহজ হয়। তবে বাংলাদেশের ফ্রিল্যান্সাদের সবচেয়ে সমস্যা হলো PayPal বাংলাদেশে সাপোর্ট করে না।


তাছাড়া ব্যাংক একাউন্টের মাধ্যমেও ফ্রিল্যান্সিং এর টাকা তুলা যায়।


শেষ কথা

ফ্রিল্যান্সিং হলো অনলাইন ভিত্তিক কাজ। এখানে আপনি ঘরে বসেই টাকা আয়ের সুযোগ পান।


অনেকে ফ্রিল্যান্সিংকে মুক্ত পেশা মনে করে যখন ইচ্ছা তখন কাজ করে। যার ফলে তার সফল হওয়ার সুযোগ কমে যায়।


তাই ফ্রিল্যান্সিং এ সফলতা অর্জনের জন্য একে সাধারণ কাজের মতোই গুরুত্বপূর্ণ দেবেন। মনে রাখবেন, "পরিশ্রমই সফলতার চাবিকাঠি।"


এই ছিল আমাদের ফ্রিল্যান্সিং নিয়ে আজকের পোস্ট। আশা করি পোস্টটি আপনার পছন্দ হয়েছে। পছন্দ হলে এটি আপনার বন্ধুদের সাথে শেয়ার করুন এবং আমাদের ব্লগ নোটিফিকেশন বেল ক্লিক করুন। যাতে এরকম ইন্টারেস্টিং পোস্ট কখনো মিস না করেন


আর আপনার ফ্রিল্যান্সিং নিয়ে আর কোনো প্রশ্ন থাকলে আপনি কমেন্ট সেকশনে জিজ্ঞেস করুন। এর যথাযথ উত্তর দেয়ার চেষ্টা করব।

সবাইকে ধন্যবাদ!


আরো পড়ুনঃ

Post a Comment

0 Comments