ওয়েব ইন্ডেক্সিং কি? ওয়েব ইন্ডেক্সিং বাড়ানোর উপায় ২০২১

আপনি যদি ব্লগিং শুরু করে থাকেন তবে ওয়েব ইন্ডেক্সিং কি তা জানা আপনার জন্য অত্যন্ত জরুরি।

ওয়েব ইন্ডেক্সিং বাড়ানোর উপায়

কারণ গুগল বা অন্য যেকোনো সার্চ ইঞ্জিন ওয়েব ইন্ডেক্সিং এর মাধ্যমেই সার্চ রেজাল্টে কোনো ব্লগ পোস্ট সো করে।


এখন যদি গুগল আপনার ওয়েবসাইটকে ইন্ডেক্স-ই না করে, তবে আপনার ওয়েবসাইটে কোনো ট্রাফিক আসবেনা। এবং আপনি আর্নিং করতে পারবেন না।


যার ফলে আপনার ব্লগিং ক্যারিয়ারের এখানেই সমাপ্তি ঘটবে। তাই ওয়েব ইন্ডেক্সিং কি এবং কিভাবে ওয়েব ইন্ডেক্সিং কাজ করে তা জানা আপনার জন্য অত্যন্ত জরুরি।


এক study -তে বলা হয়েছে গুগল প্রতিমাসে ৫ বিলিয়ন+ ওয়েব পেজ তাদের SERPs (Search Engine Result Pages) এ যুক্ত কে অর্থাৎ ইন্ডেক্স করে।


যা অনেক বড় সংখ্যা। কি তাই না?


আবার পূর্বে ইন্ডেক্স করা পেজ তো আছেই। এরপর এই সকল পেজের উপর নানান ফেক্টর প্রয়োগ করে কোনো নির্দিষ্ট কি-ওয়ার্ডের উপর একটি ওয়েব পেজকে র‍্যাংক করায়।


তাই গুগলে উপরের পজিশনে র‍্যাংক করার জন্য আপনার ওয়েব পেজ সঠিকভাবে ইন্ডেক্স হওয়া অত্যন্ত জরুরি।


আপনি যদি আপনার ওয়েবসাইটের সকল পেজ সঠিকভাবে ইন্ডেক্স করাতে চান, তবে এই পোস্টটি আপনার জন্যই।


এই আর্টিকেলে আমি আপনাকে জানাব ওয়েব ইন্ডেক্সিং কি? গুগল কিভাবে ওয়েব পেজ ইন্ডেক্স করে? ওয়েব ইন্ডেক্সিং এর প্রয়োজনীয়তা? এবং সর্বশেষ আমি আপনাকে দ্রুত ওয়েবপেজ ইন্ডেক্স করার কৌশল শেখাব।


যদি আপনি এই পোস্টটি মনোযোগ সহকারে পড়েন এবং বুঝতে পারেন, অতঃপর এখানে দেখানো পদ্ধতি অবলম্বন করেন, তবে খুব সহজেই আপনি আপনার ওয়েবসাইটের ইন্ডেক্সিং বাড়াতে পারবেন


ওয়েব ইন্ডেক্সিং কি?

ওয়েব ইন্ডেক্সিংঃ আপনি যখন আপনার ব্লগ বা ওয়েবসাইটে কোনো কন্টেন্ট লিখে পাবলিশ করেন। তখন গুগলের বট আপনার ব্লগে এসে ঐ কন্টেন্টকে ক্রল করে।


এরপর ক্রল করা ঐ কন্টেন্ট গুগল তার ডেটাবেসে সেভ করে, যাতে যখন কেউ গুগলে সেই বিষয় নিয়ে সার্চ করলে গুগল আপনার কন্টেন্ট দেখাতে পারে।


এভাবে কোনো ওয়েব পেজ বা সম্পূর্ণ ওয়েবসাইটই গুগলের ডেটাবেসে সেভ করাই হলো ওয়েব ইন্ডেক্সিং


গুগল হলো একটা সার্চ ইঞ্জিন। এখানে বিভিন্ন মানুষ বওভিন্ন বিষয় নিয়ে সার্চ করে। আপনি যখন কোনো নির্দিষ্ট বিষয় নিয়ে লিখবেন, গুগলে যখন কেউ সে বিষয়ে সার্চ করবে, গুগল তাকে আপনার ব্লগ সো করবে।


আর গুগল সার্চে যদি আপনার ব্লগ একবার চলে আসে তবে আপনি খুব সহজেই আপনার ব্লগে ট্রাফিক পাবেন। এবং আয়ও করতে পারবেন।


একারণেই ওয়েব ইন্ডেক্সিং এতো গুরুত্বপূর্ণ।


কি? বুঝতে পেরেছেন ওয়েব ইন্ডেক্সিং কি?


যদি এখনো না বুঝে থাকেন, তবে চলুন একটি সহজ উদাহরণ দিয়ে ওয়েব ইন্ডেক্সিং কি তা জানা যাক।


মনে করেন আপনার কাছে একটি বই আছে। এখন আপনি সেই বইয়ের একটি নির্দিষ্ট chapter এ যেতে চান।


এখন এর দুটি উপায় আছে।


একটি হলো আপনি বইটির প্রতিটি পৃষ্ঠা নেড়ে নেড়ে দেখুন ঐ chapter-টা কোথায় আছে। কিন্তু এটা খুবই সময় সাপেক্ষ।


আর অন্য উপায়টা হলো আপনি বইয়ের ইন্ডেক্স পেজে যান। সেখানে সকল chapter এর পৃষ্ঠা নম্বর দেয়া আছে।


আপনি সেখান থেকে আপনার কাঙ্ক্ষিত chapter এর পৃষ্ঠা নম্বর দেখুন। এবং খুব সহজেই ঐ chapter এ পৌছে যান।


ওয়েব ইন্ডেক্সিং ঠিক একইভাবে কাজ করে।


গুগল সকল ওয়েবসাইটের ওয়েব পেজগুলো ইন্ডেক্স করে। এবর যখন কেউ কোনো বিষয়ে গুগলে সার্চ করে, গুগল তার ইন্ডেক্স করা পেজ থেকে তথ্যটি খুজে বের করে।


এবং সার্চ রেজাল্টে ঐ বিষয়ের সেরা পোস্টগিলো সো করে।


কিভাবে গুগল কোনো ওয়েব পেজ ইন্ডেক্স করে?

গুগল কিভাবে কোনো ওয়েব পেজ ইন্ডেক্স করে তা বুঝার আগে আপনাকে বুঝতে হবে গুগল কাজ জরে কিভাবে


তবেই আপনি বুঝতে পারবেন কিভাবে ওয়েব পেজ ইন্ডেক্স করা হয়?


গুগল প্রধানত তিনটি ফাংশনের উপর ভিত্তি করে কাজ করেঃ

  1. ক্রলিংঃ গুগলের স্পাইডার (বট) প্রতিনিয়তই ইন্টারনেটে ঘুরে বেড়ায়। এবং নতুন নতুন ইউআরএল খুজে বের করে। একে বলা হয় ক্রলিং।

  2. ইন্ডেক্সিংঃ ক্রলিং করে গুগল যে সকল কন্টেন্ট পায় (টেক্সট, ছবি, ভিডিও ইত্যাদি) তা তার ডেটাবেসে সেভ করে রাখে। যাকে ইন্ডেক্সিং বলে।

    একবার ইন্ডেক্স হয়ে গেলে তা ইউজারকে দেখানোর জন্য প্রস্তুত হয়ে যায়।

  3. র‍্যাংকিংঃ ইন্ডেক্স করা কন্টেন্ট এবার গুগল র‍্যাংকিং করতে শুরু করে। গুগলের অনেকগুলো র‍্যাংকিং প্যারামিটার আছে।

    গুগল তার উপর ভিত্তি করে সবচেয়ে সেরা পোস্ট উপরে এবং বাকি পোস্ট নিচে র‍্যাংক করে।


এভাবে গুগলে যখন কেউ সার্চ করে, সে সম্পর্কে গুগল তার রেজাল্ট পেজে কন্টেন্ট সো করে।


গুগল কোনো পেজ ইন্ডেক্স করার জন্য সর্বপ্রথম সেই ওয়েবসাইটের মালিককে তার অনুমতি দিতে হবে।


অর্থাৎ আপনি চাইলে গুগলকে আপনার ওয়েবসাইট ইন্ডেক্স করা থেকে আটকাতে পারবেন।


যদি আপনি গুগল বটকে আপনার ওয়েবসাইট ইন্ডেক্স করার অনুমতি দেন, অর্থাৎ যদি আপনি গুগল বটকে ব্লক না করেন


তবে গুগলের বট যখন ইন্টারনেটে ঘুরে বেড়ায়। তখন কোথাও আপনার ওয়েব পেজের ইউআরএল পেলে সেই ইউআরএল এর মাধ্যমে গুগল স্পাইডার আপনার ওয়েব পেজে প্রবেশ করে।


এরপর গুগল বট ঐ ওয়েব পেজে থাকা সকল কন্টেন্টকে (যেমনঃ টেক্সট, ছবি, ভিডিও, এনিমেশন) পড়তে শুরু করে।


এবং তা তার ডেটাবেসে সংরক্ষণ করে। একবার ডেটাবেসে সেভ হয়ে যাওয়া অর্থ আপনার ওয়েব পেজ গুগলে ইন্ডেক্স হওয়া।


এভাবেই গুগল ও অন্যান্য সার্চ ইঞ্জিন কোনো ওয়েব পেজ ইন্ডেক্স করে।


ইন্ডেক্সিং কেন গুরুত্বপূর্ণ?

আপনার ওয়েবসাইটকে সার্চ রেজাল্টে সো করতে হলে অবশ্যই সর্বপ্রথম তা ইন্ডেক্স হতে হবে।


যদি আপনার ওয়েব পেজ ইন্ডেক্সই না হয়, তবে গুগল তার সার্চ রেজাল্টে দেখাবে কি করে।


আর সার্চ রেজাল্টে না আসলে আপনি ট্রাফিকও পাবেন না। এবং আপনার আয়ও শুরু হবে না। ফলে আপনি আপনার ব্লগিং ক্যারিয়ারে ব্যার্থ হয়ে যাবেন।


তাই ব্লগিং এ সফলতা পেতে হলে ও তা থেকে অর্থ উপার্জন করতে হলে সর্বপ্রথম আেনার ওয়েবসাইট ইন্ডেক্স হতে হবে।


কোনো ওয়েবসাইট ইন্ডেক্স হতে কত সময় লাগে?

কোনো ওয়েবসাইট ইন্ডেক্স হতে কত সময় লাগবে? এর উত্তর দেওয়াটা খুবই জটিল।


কারণ গুগল তখনই আপনার ওয়েবসাইট ইন্ডেক্স করবে যখন সে আপনার ওয়েবসাইটকে ইন্টারনেটে খুজে পাবে।


আপনার ওয়েবসাইট যদি ১-২ মাস পুরনো হয় এবং আপনি নিয়মিত কন্টেন্ট শেয়ার করেন। তবে আপনি কোনো পোস্ট পাবলিশ করার ১০-১৫ মিনিটের মধ্যে আপবার পোস্ট ইন্ডেক্স হয়ে যাবে।


কিন্তু যদি আপনার ওয়েবসাইট নতুন হয় তবে তা ইন্ডেক্স হতে অবশ্যই কিছুটা সময় লাগবে।


কতটা সময় লাগবে তা বলা মুশকিল। তবে কয়েকটি উপায় আছে যা প্রয়োগ করলে খুব আপনার পোস্ট দ্রুত ইন্ডেক্স হওয়ার সম্ভাবনা বেড়ে যাবে।


আর তাই এখন আমরা জানব কিভাবে আপনি আপনার ওয়েবসাইটের ইন্ডেক্সিং বাড়াতে পারেন?


ওয়েব ইন্ডেক্সিং কিভাবে বাড়ানো যায়?

আপনার ওয়েবসাইট সার্চ ইঞ্জিনে দ্রুত ইন্ডেক্স করার জন্য আপনার ওয়েবসাইটকে অবশ্যই এসইও অপটিমাইজ হতে হবে।


আপনাকে আপনার ওয়েবসাইটের অন-পেজ এসইও ও ওফ-পেজ এসইও সঠিকভাবে করতে হবে।


এছাড়াও আরো কয়েকটি বিষয় আছে যা আপনার ওয়েবসাইটের ইন্ডেক্সিং বাড়াতে সাহায্য করে। আপনাকে সে বিষয়ের উপর ভালোভাবে নজর দিতে হবে। যেমনঃ Quality কন্টেন্ট, ব্যাকলিংক, ইউআরএল স্ট্রাকচার ইত্যাদি।


আপনাকে এই বিষয়গুলোর উপর গুরুত্বারূপ করতে হবে। এতে আপনার ওয়েবসাইটের ইন্ডেক্সিং অনেকগুণ বেড়ে যাবে।


শেষ কথা

আপনি যদি আমার এই পোস্টটি মনোযোগ সহকারে পড়েন তবে আপনি অবশ্যই এটি বুঝতে পেরেছেন, কোনো ওয়েবসাইটের র‌্যাঙ্কিংয়ের জন্য ইন্ডেক্সিং কতটা গুরুত্বপূর্ণ।


তাই আপনাকে সর্বদা unique এবং অধিক ইনফরমেটিভ সম্পূর্ণ পোস্ট তৈরি করা উচিত। কারণ গুগলের বটগুলি এই ধরণের পোস্টকে খুব দ্রুত ইনডেক্স করে এবং অনেক উপরের স্থানে র‌্যাঙ্কিংও করে।


আমার এই নিবন্ধটির মূল উদ্দেশ্যটি হল আপনার ওয়েবসাইটের ইন্ডেক্সিং উন্নত করা। যাতে আপনার ওয়েবসাইটে ট্রাফিক বৃদ্ধি পায় এবং আপনার ওয়েবসাইটটি সার্চ ইঞ্জিনে উচ্চতর স্থান অর্জন করতে পারে।


কারণ যদি ইন্ডেক্সিং না করা হয় তবে আপনার ওয়েবসাইটটি সার্চ ইঞ্জিনের রেজাল্ট পেজে প্রদর্শিত হবে না।


যখন আপনার ওয়েবসাইট সার্চ ইঞ্জিনের রেজাল্ট পেজে আসবে না তখন ওয়েবসাইটে পোস্ট লিখে না আপনি ট্রাফিক পাবেন আর নাই কোনো প্রকার আয় করতে পারবেন।


এই কারণেই এই পোস্টে আমি ইনডেক্সিং কী, ওয়েবসাইটের জন্য ইন্ডেক্সিং কেন গুরুত্বপূর্ণ এবং আপনি কীভাবে আপনার ওয়েবসাইটের ইন্ডেক্সিংকে উন্নত করতে পারেন সে সম্পর্কে সম্পূর্ণ তথ্য দিয়েছি।


আপনি যদি এই পোস্টটি পড়েন এবং এতে উল্লিখিত গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলি অনুসরণ করেন তবে আপনি সহজেই আপনার ওয়েবসাইটের ইন্ডেক্সিংকে অনেক বেশি বাড়াতে পারবেন। এবং সার্চ ইঞ্জিনে আপনার ওয়েবসাইটকে র‌্যাঙ্ক করতে পারেন।


যদি এখনো আপনার মনে ওয়েব ইন্ডেক্সিং নিয়ে কোনো প্রশ্ন থাকে তবে আপনি কমেন্ট সেকশনে জিজ্ঞেস করুন।


আশা করি এই পোস্টটি আপনার ভালো লেগেছেন। যদি আপনি এই নিবন্ধটি আপনার ভালো লেগে থাকে অবশ্যই আপনি এই পোস্টটি আপনার সোসাইল মিডিয়া প্ল্যাটফর্মে শেয়ার করুন। যাতে অন্যরাও উপকৃত হতে পারে।

Post a Comment

0 Comments